বাংলাদেশের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এর লোকশিল্প, সঙ্গীত, সাহিত্য ও উৎসবের সমন্বয়ে।
নকশিকাঁথা, শীতল পাটি, মাটির শিল্প, বাঁশের কাজ, পুতুল নাচ সহ বাংলার লোকশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
বাউল, ভাটিয়ালি, মারফতি, জারি, সারি, মুর্শিদী, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতি নিয়ে বাংলার সঙ্গীত ভাণ্ডার।
মধ্যযুগ থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের গৌরবময় ইতিহাস। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীন, বেগম রোকেয়া।
পহেলা বৈশাখ, ঈদ, দূর্গাপূজা, পৌষ মেলা, নবান্ন, বসন্ত উৎসব - বাংলার জীবনাচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাংলাদেশের যে সাংস্কৃতিক সম্পদ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।
১৫শ শতকে খান জাহান আলীর প্রতিষ্ঠিত এই শহরটি ইসলামিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন। ষাট গম্বুজ মসজিদ, খান জাহানের মাজার এখানকার প্রধান আকর্ষণ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় ১৯৮৫ সালে অন্তর্ভুক্ত।
ইতিহাস জানুন
বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক যা এটিকে অনন্য করে তুলেছে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের শিল্পকর্মের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। পুরনো শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে তৈরি এই কাঁথায় ফুটে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি, লোকজীবন ও পুরাণের গল্প।
বাংলাদেশের মরমী সঙ্গীতের ধারা। লালন সাঁই, হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত প্রমুখ বাউলদের গান মানুষের আত্মার সন্ধান করে। ইউনেস্কো অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত।
বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক উৎসব। মঙ্গল শোভাযাত্রা, বাণিজ্য মেলা, পান্তা-ইলিশ, রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে বরণ করা হয় নতুন বছর।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়। উত্তরের রাজশাহী, দক্ষিণের বরিশাল, পূর্বের সিলেট ও পশ্চিমের খুলনা - প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে অনন্য ঐতিহ্য।
বাংলাদেশের নৃত্য, নাটক ও চারুকলা সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারক। যাত্রাপালা, কবিগান, পুতুলনাচ, আলপনা আঁকা - গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, লোকশিল্প জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংস্কৃতি সংরক্ষণে কাজ করছে।
বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক গবেষণা কেন্দ্রগুলো কাজ করছে।
বছরজুড়ে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসব, মেলা, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ এবং অনলাইনে প্রদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর।
মহাস্থানগড় (বগুড়া) এবং পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (নওগাঁ) বাংলাদেশের প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক নিদর্শন। এগুলি খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতক থেকে গুপ্ত ও পাল আমলের সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে।
বাংলাদেশের বাউল সঙ্গীত, জামদানি বুনন শিল্প, মঙ্গল শোভাযাত্রা (পহেলা বৈশাখ) এবং শীতল পাটি বুনন শিল্প ইউনেস্কোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
মৈমনসিংহ গীতিকা, পূর্ববঙ্গ গীতিকা, দেওয়ানা মদিনা, কাজীর বিচার, ঠাকুরমার ঝুলি, রূপকথা, প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ইত্যাদি বাংলাদেশের লোকসাহিত্যের প্রধান শাখা।
চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, মণিপুরীসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক, নৃত্য, সঙ্গীত, উৎসব ও শিল্পকলার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
স্থানীয় উৎসবে অংশগ্রহণ, লোকশিল্প কেনা ও ব্যবহার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা, স্থানীয় ভাষা ও কথ্যরীতি চর্চা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নতুন প্রজন্মকে এসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আমাদের গর্বের বিষয়। আসুন আমরা আমাদের সংস্কৃতি চর্চা করি, সংরক্ষণ করি এবং বিশ্বদরবারে তুলে ধরি।